মৌলভীবাজারের মানুষকে কেন ‘ফগা’ বলা হয়? একটি ঐতিহাসিক ভ্রান্তি!
সিলেট অঞ্চলের মানুষদের মধ্যে, বিশেষ করে মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দাদের নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে একটি শব্দ প্রচলিত রয়েছে—‘ফগা’। অনেকের কাছেই এটি একটি নেতিবাচক শব্দ বা বোকা হিসেবে পরিগণিত হয়। কিন্তু আসলেই কি মৌলভীবাজারবাসী বোকা ছিল? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক সুচতুর এবং তীক্ষ্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবাদের ইতিহাস? আজ ২০২৬ সালের এই আধুনিক যুগে দাঁড়িয়ে, যখন আমরা স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন বুনছি, তখন আমাদের অতীত ইতিহাসের এই সোনালী পাতাটি উল্টে দেখা অত্যন্ত জরুরি। আসুন, আজ জেনে নিই মৌলভীবাজারবাসীকে কেন ‘ফগা’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল এবং এটি মূলত অপবাদ নাকি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে এক নীরব চপেটাঘাত!
১৯১৯ সালের নির্বাচন ও ব্রিটিশদের চতুরতা
সময়টা ১৯১৯ সাল। সমগ্র ভারত জুড়ে তখন ব্রিটিশ বিরোধী অসহযোগ আন্দোলন জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ঠিক সেই মুহূর্তে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরানোর জন্য চতুর ইংরেজ সরকার ‘গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া অ্যাক্ট ১৯১৯’ এর অধীনে একটি আইন পাস করে, যেখানে আসাম প্রাদেশিক আইন সভার (Assam Legislative Council) সদস্য নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়। তৎকালীন সময়ে আসাম প্রাদেশিক আইন সভার সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ৫৩ জনে উন্নীত করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৪১ জন ছিলেন নির্বাচিত সদস্য।
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এই নির্বাচনকে হাস্যকর মনে করে তা বর্জনের ডাক দেয়। কংগ্রেসের এই বর্জনের সুযোগ নিয়ে ব্রিটিশদের আশীর্বাদপুষ্ট একটি গোষ্ঠী ‘ন্যাশনাল লিবারাল ফ্রন্ট’ গঠন করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেয়। সেই সময় দক্ষিণ শ্রীহট্ট (বর্তমান মৌলভীবাজার) পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান ইরেশ লাল সোম এই ফ্রন্টের পক্ষ থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হন।
প্রতিবাদের অভিনব ভাষা: চিরতন মুচির উত্থান
কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ চিন্তা করলেন, ব্রিটিশদের এই নির্বাচনকে যদি বিশ্বের কাছে হাস্যকর প্রমাণ করতে হয়, তবে সাধারণ শিক্ষিত বা ভদ্রলোকদের পরিবর্তে এমন কাউকে দাঁড় করাতে হবে যা ব্রিটিশ অহংকারে আঘাত হানবে। সিদ্ধান্ত হলো, নিরক্ষর এবং সমাজের একেবারে প্রান্তিক পেশার মানুষদের (যেমন মুচি, ধোপা, নাপিত, মাঝি ইত্যাদি) দিয়ে এই নির্বাচন করানো হবে।
তখনকার মৌলভীবাজারের পশ্চিম বাজারে একটি ছোট্ট ঝুপড়িতে বসবাস করতেন চিরতন হরিজন, যিনি সবার কাছে ‘চিরতন মুচি’ নামে পরিচিত ছিলেন। তৎকালীন শিক্ষিত সমাজ ও কংগ্রেস নেতারা দল বেঁধে তার কাছে হাজির হয়ে তাকে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেন। প্রথমে চিরতন মুচি ভয়ে বলে উঠেছিলেন,
"রাম রাম এ কিয়া বলো বাবু! হামি আপনার সাথে কোন দুছ করছি যে, হামার লগে আপনারা তামছা করতে আইছন।"কিন্তু পরবর্তীতে দেশপ্রেমের টানে এবং বাবুদের চাপে তিনি রাজি হন। তার হয়ে খাজনা ও ট্যাক্স পরিশোধ করা হয়, তাকে সিলেটি নাগরী হরফে দস্তখত শেখানো হয় এবং বাবুয়ানা পোশাকে সাজিয়ে তোলা হয়।
বোকা কে? ব্রিটিশরা নাকি মৌলভীবাজারবাসী?
নির্বাচনী প্রচারণায় চিরতন মুচির বক্তব্য ছিল অত্যন্ত সহজ ও স্পষ্ট—"বাবুরা, হামি খানবাহাদুর, রায়বাহাদুর নেহি, হামি মুচি বেটা আছি, আপনাগো খাদেম আছি, খাদেম রহেগা।" ফলস্বরূপ, ১৯২০ সালের নির্বাচনে চিরতন মুচি বিপুল ভোটে ইরেশ লাল সোমকে পরাজিত করে আসাম লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য (এমএলসি) নির্বাচিত হন। একইভাবে সুনামগঞ্জ থেকে কালিচরণ মুচি এবং কুমিল্লা থেকে মোকরম আলী ভাটিয়ালও নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এই পুরো নির্বাচনটি ছিল ব্রিটিশদের সাজানো গণতন্ত্রের প্রতি এক বিশাল চপেটাঘাত। মৌলভীবাজারের মানুষ দেশপ্রেম বুকে ধারণ করে একটি হাস্যকর নির্বাচনকে সত্যিই পৃথিবীর শিক্ষিত জাতির কাছে প্রহসনে পরিণত করেছিল। বাইরের জেলার কিছু লোক, যারা এই কূটকৌশল বুঝতে পারেনি, তারা মনে করেছিল মৌলভীবাজারের মানুষ বোকা, তাই তারা একজন মুচিকে ভোট দিয়েছে। সেই থেকেই অজ্ঞতাবশত মৌলভীবাজারবাসীকে ‘ফগা’ (বোকা) বলা শুরু হয়। অথচ ইতিহাস প্রমাণ করে, মৌলভীবাজারের মানুষ বোকা ছিল না, তারা ছিল তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন, প্রতিবাদী এবং চরম দেশপ্রেমিক!
১৯২০ সালের সচেতনতা থেকে ২০২৬ সালের স্মার্ট মৌলভীবাজার
যেই মৌলভীবাজারের মানুষ ১০০ বছর আগে নিজেদের তীক্ষ্ণ বুদ্ধির মাধ্যমে ব্রিটিশদের বোকা বানিয়েছিল, ২০২৬ সালের আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সেই মৌলভীবাজারবাসী আজ আরও অনেক বেশি স্মার্ট ও অগ্রসর। অতীতের সেই সচেতনতার ঐতিহ্য ধরে রেখেই বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে প্রযুক্তি প্রেমীরা এখন কম্পিউটারে দক্ষ হয়ে ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং এবং আইটি সেক্টরে সারা বিশ্বে নিজেদের প্রমাণ করছে।
যারা একেবারেই নতুন, জীবনে হয়তো কখনো কম্পিউটার ধরেননি বা প্রযুক্তিগত জ্ঞান কম, তাদের জন্য আধুনিক আইটি শিক্ষা গ্রহণ করা এখন সময়ের সেরা দাবি। আপনার ভেতরে থাকা সেই তীক্ষ্ণ বুদ্ধিকে কাজে লাগানোর এখনই সময়। Point IT & PTE Coaching Center মৌলভীবাজারবাসীকে এই ডিজিটাল যাত্রায় সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবে সহায়তা করছে।
আমাদের স্লোগানই হলো—
"মৌলভীবাজারের সেরা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও PTE কোচিং সেন্টার। কারিগরি শিক্ষায় গড়বো দেশ, স্মার্ট হবে বাংলাদেশ।"
Point IT-এর বিশেষত্ব
- আধুনিক কারিকুলাম (২০২৬ স্ট্যান্ডার্ড): একদম নতুনদের জন্য বেসিক কম্পিউটার থেকে শুরু করে প্রফেশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট।
- অনলাইন ভেরিফায়েড প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট: আমাদের প্রদানকৃত প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে Point IT-এর পোর্টালের মাধ্যমে অথবা সার্টিফিকেটে থাকা QR কোড স্ক্যান করে ভেরিফাই করা যায়।
- সহজ যোগাযোগ: আমাদের অবস্থান— TC Market (2nd Floor), Court Road, Chowmohona, Moulvibazar 3200, Bangladesh.
আমাদের স্পেশাল ফ্রি কোর্স সম্পর্কে জানুন
Point IT আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে সম্পূর্ণ ফ্রি "7 Days MS Word" কোর্স। এই কোর্সে আমরা আপনাকে শেখাবো একদম বেসিক থেকে Microsoft Word-এর খুঁটিনাটি এবং দ্রুতগতিতে English Typing করার দারুণ সব টেকনিক। এটি একদম নতুনদের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, তাই কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই। রেজিস্ট্রেশন করতে ভিজিট করুন: Point IT Free Course
এছাড়াও, আমাদের অন্যান্য প্রফেশনাল কোর্সে ভর্তি হতে ভিজিট করুন: Point IT Admission
আপনি যদি উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে চান এবং PTE প্রস্তুতি নিতে চান, তবে যুক্ত হোন আমাদের সাথে: Point IT PTE Coaching
তথ্যসূত্র
এই ঐতিহাসিক তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নিচের সোর্সগুলো পড়া যেতে পারে:
- কুলাউড়া দর্পণ (নিজামূল ইসলামের প্রতিবেদন)
- প্রবাস জার্নাল (লেখক ফারুক আহমেদ ও আইনজীবী ভি ডি নিউটনের প্রতিবেদন)
- বাংলাদেশের ইতিহাস (আধুনিক যুগ) - লেখক: রমেশ চন্দ্র মজুমদার
আপনার একটি রিভিউ আমাদের অনুপ্রাণিত করবে
প্রিয় মৌলভীবাজারবাসী, আমাদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস এবং আধুনিক প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন সম্পর্কে আপনার মতামত আমাদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। Point IT সব সময় আপনাদের আইটি স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াসকে আরও বহুদূর এগিয়ে নিতে আপনার একটি সুন্দর গুগল রিভিউ আমাদের জন্য হতে পারে বিশাল এক অনুপ্রেরণা। দয়া করে মাত্র এক মিনিট সময় নিয়ে আপনার মূল্যবান মতামতটি আমাদের জানান:
Google Review দিন
মন্তব্য লোড হচ্ছে…