ল্যাপটপ নাকি ডেস্কটপ – কোনটা আপনার জন্য সেরা হবে ২০২৬ সালে ?

আজকাল অনেকেই এই প্রশ্নের মুখোমুখি হন – ল্যাপটপ কিনব নাকি ডেস্কটপ? বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রী, চাকরিজীবী, ফ্রিল্যান্সার এবং বাড়িতে ব্যবহারকারীরা। মৌলভীবাজারের TC মার্কেটে আমাদের Point IT কোচিং সেন্টারে প্রতিদিনই শিক্ষার্থীরা এই প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করে। আসুন ২০২৬ সালের বাস্তব পরিস্থিতিতে দুটোর তুলনা করে দেখি কোনটা আপনার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।

ল্যাপটপের সুবিধা ও অসুবিধা

সুবিধাসমূহ

পোর্টেবিলিটি – যেকোনো জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়। ক্লাস, লাইব্রেরি, বাসা-বাড়ি, ভ্রমণ – সব জায়গায় কাজ করা সম্ভব।ব্যাটারি ব্যাকআপ – লোডশেডিং বা বিদ্যুৎ না থাকলেও ৪–৮ ঘণ্টা (মডেলের উপর নির্ভর করে) কাজ করা যায়। বাংলাদেশে এটা এখনও খুব বড় সুবিধা।সবকিছু একসাথে – স্ক্রিন, কীবোর্ড, টাচপ্যাড, ওয়েবক্যাম, স্পিকার সবই আছে। আলাদা করে মনিটর-কীবোর্ড কিনতে হয় না।দ্রুত শুরু করা যায় – খুললেই কাজ শুরু। কোনো তারের ঝামেলা নেই।

অসুবিধাসমূহ

দাম বেশি – একই পারফরম্যান্সের জন্য ডেস্কটপের চেয়ে ৩০–৬০% বেশি খরচ হয়।আপগ্রেড করা কঠিন – বেশিরভাগ মডেলে RAM ও SSD ছাড়া আর কিছু আপগ্রেড করা যায় না।তাপ ও শব্দ – হাই পারফরম্যান্স কাজে গরম হয়ে যায় এবং ফ্যানের শব্দ হয়।মেরামত খরচ বেশি – কোনো কিছু নষ্ট হলে পুরো মাদারবোর্ড বা অন্যান্য পার্টস বদলাতে অনেক টাকা লাগে।

ডেস্কটপের সুবিধা ও অসুবিধা

সুবিধাসমূহ

অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রতি টাকায় – একই বাজেটে ল্যাপটপের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী প্রসেসর, গ্রাফিক্স কার্ড, RAM পাওয়া যায়।সহজে আপগ্রেড – ২–৩ বছর পর RAM, SSD, GPU, পাওয়ার সাপ্লাই সবকিছু বদলানো যায়। দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক।ভালো কুলিং – বড় কেস ও ফ্যানের কারণে দীর্ঘক্ষণ হাই পারফরম্যান্সে কাজ করলেও ঠান্ডা থাকে।বড় স্ক্রিন ও কাস্টমাইজেশন – ২৭–৩২ ইঞ্চি মনিটর, মেকানিক্যাল কীবোর্ড, ভালো মাউস – সব নিজের পছন্দমতো বেছে নেওয়া যায়।

অসুবিধাসমূহ

নড়াচড়া করা যায় না – এক জায়গায় বসে কাজ করতে হয়।বিদ্যুৎ চলে গেলে বন্ধ – ব্যাটারি নেই। UPS লাগে।জায়গা বেশি লাগে – টেবিলের অনেকটা জায়গা দখল করে।



২০২৬ সালে বাংলাদেশে কার জন্য কোনটা ভালো?

আপনি যদি... সাজেশন কেন?
ছাত্র/ছাত্রী (কলেজ/ইউনিভার্সিটি) ল্যাপটপ ক্লাস, গ্রুপ স্টাডি, লাইব্রেরি, লোডশেডিং – সবকিছুতে সুবিধা।
অফিস/ফ্রিল্যান্সিং (MS Office, Zoom, Browsing) ল্যাপটপ যেকোনো জায়গা থেকে কাজ করা যায়।
ভিডিও এডিটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, প্রোগ্রামিং (হেভি) ডেস্কটপ বেশি পাওয়ার ও আপগ্রেডের সুবিধা।
গেমিং (মিড-রেঞ্জ বা হাই) ডেস্কটপ ভালো GPU ও কুলিং সহ সস্তায় পাওয়া যায়।
বাজেট খুব কম (৫০–৮০ হাজার টাকা) ডেস্কটপ অনেক বেশি পারফরম্যান্স পাবেন।
আমাদের অভিজ্ঞতায় মৌলভীবাজারের অধিকাংশ শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রফেশনালদের জন্য ল্যাপটপই বেশি প্র্যাকটিক্যাল। কারণ বিদ্যুৎ সমস্যা, ক্লাস-কোচিংয়ে যাতায়াত এবং এক জায়গায় বসে না থাকার সুবিধা অনেক বেশি।

শেষ কথা – আমাদের সাজেশন

যদি আপনি মৌলভীবাজারে থেকে পড়াশোনা, PTE প্রস্তুতি, অফিস কাজ বা লাইট প্রোগ্রামিং করেন → ল্যাপটপ নিন।

যদি আপনার কাজ হয় ভারী গ্রাফিক্স, ভিডিও এডিটিং, গেমিং বা দীর্ঘমেয়াদে টাকা বাঁচাতে চান → ডেস্কটপ বানান।

দ্বিধায় থাকলে আমাদের Point IT কোচিং সেন্টারে (TC Market, ২য় তলা, Court Road, Moulvibazar) এসে সরাসরি আলোচনা করুন। আমরা আপনার বাজেট ও কাজের ধরন দেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবো।

কারিগরি শিক্ষায় গড়বো দেশ, স্মার্ট হবে বাংলাদেশ!

মতামত লিখুন: